উটের বোঝা
83 সে আশায়
গাছের মতন আমি ছায়া ফেলি সূর্যের ইঙ্গিতে
হৃদয়ে জমানো ইচ্ছে বেহিসাবী হওয়া নয় কিছুতেই
ভাবাবেগ তবু আসে ইপ্শিত কামনার দাহ নিয়ে
হিসাবের চোরাবালী নিঃশব্দে কথা বলে বুকের ভিতর ।
ঘনঘন নাড়া দেয় পাইনি কি এতদিন সেই ব্যথা
মুহূর্তে মনেহয় আমিই ত স্রষ্টা সমস্ত অলীক
পদানত এ পৃথিবী আমারই ছোয়াঁয় বাচে প্রতিদিন
হিমাদ্রী শেখর আমি কেন এই সংশয় কেন সন্দেহ ।
খুশির ছোঁয়াতে তুমি জানি ঠিক ফোটাবে কুসুম বুকে
স্বপ্নের মাঝে আমি অবহেলে ওষ্ঠে আঁকিব চুম্বন
পক্ষীশাবক হবে আঙুলের মাঝ খানে কবে তুমি
সারাদিন সে আশায় ঘুড়ি আমি তোমার চতুর্দিকে ।
রচনা : December 1971
------------------------
84 নালন্দার ভগ্নস্তূপে
নালন্দার ভগ্নস্তূপে
ইতিহাস কথা বলে প্রত্যহ প্রত্যূষে ;
অতীতের মর্মবাণী
হৃদয়ে কী অনুভূতি দিলো আজ আনি ।
অধ্যয়ন গৃহে যেতে প্রতিদিন
বুদ্ধের স্তব ,ধ্যান অমলিন ।
এরাই ত ছাত্র ছিল বটে
ভেসে ওঠে অন্তর্ধাণ পটে
শিক্ষার কী অসীম আগ্রহ
সুদূর সিংহল চীন বুদ্ধের বিগ্রহ
হতে নানা শাস্ত্রেতে পন্ডিত ;
কালের কবল হতে এখন ও যে গৃহের ভিত
আমাদর মুগ্ধো করে ছড়ায় সৌরভ
তাহাতেই বুঝে নিই
সুমহান ভারতের অতীত গৌরব ।
এ বিশাল কীর্তি
বিভিন্ন রাজাদের অমলিন স্মৃতি ।
একা একা সূর্যের আহ্নিক গতি দেখি বসে
বিষাদ মলিন লাগে বিহারের পৌষে ।
দূরে এক বৌদ্ধ দেখি মুন্ডিত মস্তক
মস্তিস্ক বিকৃৃত বলে দেয় পর্যটক
সামান্য যা অর্থ কিছু যে যাহাই পারে
তাই নিয়েই যায় বলে সে অনুচ্চ চীৎকারে
নালন্দার ইতিহাসটাই প্রসঙ্গ তার পেলে ।
আমার হৃদয়পাখী দুটি ডানা মেলে
চলে যায় অতীতের উজ্বল প্রভাতে
দশ হাজার ছাত্ররা মিলে একসাথে
পাঠ করে শুনি আমি
বুদ্ধানাং শরণাং গচ্ছামি ।
রচনা : December 1971
-------------------
85
নিঃসার্থ ভালোবাসা
ABP Ananada খুলিনা ভয়ে
খুললেই বিজ্ঞাপনের মহিলারা রে রে করে তেড়ে আসে
কিনতেই হবে তাদের দেখানো পন্য ।
না হলে আমার হাজার টাকা জরিমানা ।
TV বন্ধ রেখেছি এখন খুলছি না আর ভয়ে
উন্নয়নের ঝড় বইছে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ।
pressure cooker যখন শোঁ শোঁ আওয়াজ করে
সামনে থাকিনা ভয়ে, ওটা ফেটেও যেতে পারে ।
মুঠো ফোন বন্ধ করে শুই রাতে
ক্যান্সার হওয়ার ভয় ।
চতুর্দিকে এত ভয় শরীরে জ্বর নিশ্চই
একোনাইট দিয়ে রাখি কখন কি হয় ।
কাজু বাদামের ফেনী কিংবা মহূয়ার মত্ত সোমরস
না খেলে কিভাবে ছড়াবো আর
আধুনিক কবিতার তীব্র ফুলঝুড়ি
না বোঝা জীবনের গাঢ় অনুভূতি ।
মৃত মানুষের সাথে খই ফুল উড়ে যায়
বাতাসে রেখে যায় ফিনফিনে দুঃখ ,কিছু আনন্দ ইতিহাস ।
কবির মতন আর কে আছে বলো
বিনি পয়সায় উজাড় করে দিয়ে যায়
জীবনের গূঢ় অর্থ নিঃসার্থ ভালোবাসা ।
--------------------------------
86আমানত শুধুই নেশা,
কচুপাতায় জল অর্থহীন জীবন
প্রতিদিন অস্হিরতা ,কম্পমান জল
বাড়ছে কমছে রোজ ভাঙছে স্বপ্ন
আমানত শুধুই নেশা,বাড়াচ্ছে রক্তচাপ ।
তাই সঞ্চয় করেছি তাকে মৃত্তিকার তলে
ছোট ছোট খানা ডোবা ভরতে ভরতে
অবশেষে স্বপ্ন দেখি ভাকড়া নাঙ্গাল ।
আমার জলকে নিয়ে স্বপ্ন ঘেরা বাঁধ
চাষের যোগাবে জল শহরকে বিদ্যুৎ
ভূমিকম্প হলেও বাধঁ থাকবে অটুট ।
কচুপাতায় জল অর্থহীন জীবন
আমানত শুধুই নেশা,
আমি বানাচ্ছি ক্রমে ভাকড়া নাঙ্গাল ।
---------------------------
87 কোথাও পাইনি
রাজপথে কোলাহলে তোমাকে পাইনি আমি কোথাও
লালদীঘি ময়দানে কিংবা রবীন্দ্রসদনে ও
কলেজের এককোনে একাকীনি মনমরা দেখিনিত
বাস ট্রাম লাইব্রেরী কোনখানে হোল নাত পরিচয় ।
মনের মানুষ নেই বেদনায় আছি তাই নিশ্চুপ
সূর্য্যাস্তে রাঙানো মেঘ ,ফুলের উপরে অলি দেখিনি
তোমাকে খুজেঁছি শুধু উদভ্রান্ত হৃদয়ে হয়েছি নিষ্ফল ।
যা চেয়েছি চিরকাল আজকে হঠাৎ দেখি দরজায়
বসন্তের এ প্রভাত পাখীর কূজনে ,ফুলে একাকার ।
ভেবে দেখি এ বারেতে পেয়ে যাবো তোমাকে নিশ্চই ।
রচনা : ১৩/১০/১৯৭০
----------------------------
88
শৈশব সে কেটে গেছে আধো তন্দ্রা আধো জাগরণে
তারপর উত্তরণ কালের অজস্র কোটি কোষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে
নিহত সময় শিশুর বার্তা নিয়ে সাথে আমিও এলাম
রক্তের গভীরে ডাকে যৌবনের শঙ্খচিল প্রখর নিদাঘে ।
বিশ্বাসের মাঠে কত স্বপ্ন বোনা হয়ে আছে শৈশবের তীরে
তোলার সময় দেখি অলক্ষে কেটে গেছে কত কাল
পথের দিশারী মৃত ,বেদুইন আমি দেখি পথ একাকার
ময়দান মিছিলে এসে বিভ্রান্ত আমার চোখে আলোর নিশানা
হৃদয়ে রক্তের ডাক সুদীর্ঘ নদীর মতো সমুদ্র সংগমে
হাওয়ার ঘূর্ণী লেগে কমলা রঙের রোদ দেখি ম্রীয়মান
বিশ্বাসের বন্ধ্যা জমি নারীর হৃদয় পেয়ে করি ফিরে চাষ ।
রচনাকাল ১৯৭১
--------------------------
89 গতকাল এমনি সময়
এখন হৃদয়ে মনে আত্মরতির সুখ
ট্যালকাম পাউডারে তুলতুলে বিছানায় যেন শুয়ে আছি ।
স্মৃতির শিকড় গুলো হৃদয় জমির রস শুসে বেড়ে চলে
কল্পনার অল্প আলো তোমার আয়ত চোখ ভেসে ভেসে ওঠে ।
বৃষ্টির জলের প্রেম খানা ডোবা ভরে ওঠে কলকল করে ।
আমার যখনি যাওয়া ট্রেনে করে দিনরাত
কষ্ট হয় ছেড়ে যেতে ,ট্রেনের কামরা যেন করে হাহাকার ।
আমার স্পর্শ পাওয়া বিভন্ন ষ্টেশন, দূরের আকাশ
প্রেমের বন্ধনে দেখি ঠাঁই করে নেয় ।
ভেবে দেখি গতকাল এমনি সময়
তোমার হাসির ছোয়াঁয়
ট্রেনের সমস্ত আসবাব ধন্য হয়ে গেছে ।
রচনাকাল ১৯৭১
-------------------------
90 উটের বোঝা
বিবিক্ত নদীর সুরে একা পড়ে তীর ভূমি
তরঙ্গের পায়ে পায়ে শব্দোথ্থিত যুক্তির মালা
কল্পনার দৃশ্যপট হতে তাকে প্রাণ দিতে পারি
যদি আমি একা থাকি
শব্দের মালা দিয়ে কবিতা সাজাই ।
বেদনা বা উচ্ছাস প্রাণের বৃক্ষ থেকে
পরগাছা আবর্জণা হয়ে
বন্ধুদের কাছে যদি পরিত্রাণ চায়
সুরভিত ফুল কিংবা রসালো ফলের জন্ম
স্বপ্ন রয়ে যায় ।
তাই এই উটের বোঝা একাএকা
শিল্পী হয়ে চিরদিন বয়ে যেতে হবে ।
অন্তিম সাগর সুখে লক্ষ্য আছে ।
কিছু কবিত্ব কিছু সৌন্দর্য পৃথিবীকে
দিয়ে যেতে হবে ।
রচনাকাল 15.3.1971
--------------------------
গাছের মতন আমি ছায়া ফেলি সূর্যের ইঙ্গিতে
হৃদয়ে জমানো ইচ্ছে বেহিসাবী হওয়া নয় কিছুতেই
ভাবাবেগ তবু আসে ইপ্শিত কামনার দাহ নিয়ে
হিসাবের চোরাবালী নিঃশব্দে কথা বলে বুকের ভিতর ।
ঘনঘন নাড়া দেয় পাইনি কি এতদিন সেই ব্যথা
মুহূর্তে মনেহয় আমিই ত স্রষ্টা সমস্ত অলীক
পদানত এ পৃথিবী আমারই ছোয়াঁয় বাচে প্রতিদিন
হিমাদ্রী শেখর আমি কেন এই সংশয় কেন সন্দেহ ।
খুশির ছোঁয়াতে তুমি জানি ঠিক ফোটাবে কুসুম বুকে
স্বপ্নের মাঝে আমি অবহেলে ওষ্ঠে আঁকিব চুম্বন
পক্ষীশাবক হবে আঙুলের মাঝ খানে কবে তুমি
সারাদিন সে আশায় ঘুড়ি আমি তোমার চতুর্দিকে ।
রচনা : December 1971
------------------------
84 নালন্দার ভগ্নস্তূপে
নালন্দার ভগ্নস্তূপে
ইতিহাস কথা বলে প্রত্যহ প্রত্যূষে ;
অতীতের মর্মবাণী
হৃদয়ে কী অনুভূতি দিলো আজ আনি ।
অধ্যয়ন গৃহে যেতে প্রতিদিন
বুদ্ধের স্তব ,ধ্যান অমলিন ।
এরাই ত ছাত্র ছিল বটে
ভেসে ওঠে অন্তর্ধাণ পটে
শিক্ষার কী অসীম আগ্রহ
সুদূর সিংহল চীন বুদ্ধের বিগ্রহ
হতে নানা শাস্ত্রেতে পন্ডিত ;
কালের কবল হতে এখন ও যে গৃহের ভিত
আমাদর মুগ্ধো করে ছড়ায় সৌরভ
তাহাতেই বুঝে নিই
সুমহান ভারতের অতীত গৌরব ।
এ বিশাল কীর্তি
বিভিন্ন রাজাদের অমলিন স্মৃতি ।
একা একা সূর্যের আহ্নিক গতি দেখি বসে
বিষাদ মলিন লাগে বিহারের পৌষে ।
দূরে এক বৌদ্ধ দেখি মুন্ডিত মস্তক
মস্তিস্ক বিকৃৃত বলে দেয় পর্যটক
সামান্য যা অর্থ কিছু যে যাহাই পারে
তাই নিয়েই যায় বলে সে অনুচ্চ চীৎকারে
নালন্দার ইতিহাসটাই প্রসঙ্গ তার পেলে ।
আমার হৃদয়পাখী দুটি ডানা মেলে
চলে যায় অতীতের উজ্বল প্রভাতে
দশ হাজার ছাত্ররা মিলে একসাথে
পাঠ করে শুনি আমি
বুদ্ধানাং শরণাং গচ্ছামি ।
রচনা : December 1971
-------------------
85
নিঃসার্থ ভালোবাসা
ABP Ananada খুলিনা ভয়ে
খুললেই বিজ্ঞাপনের মহিলারা রে রে করে তেড়ে আসে
কিনতেই হবে তাদের দেখানো পন্য ।
না হলে আমার হাজার টাকা জরিমানা ।
TV বন্ধ রেখেছি এখন খুলছি না আর ভয়ে
উন্নয়নের ঝড় বইছে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ।
pressure cooker যখন শোঁ শোঁ আওয়াজ করে
সামনে থাকিনা ভয়ে, ওটা ফেটেও যেতে পারে ।
মুঠো ফোন বন্ধ করে শুই রাতে
ক্যান্সার হওয়ার ভয় ।
চতুর্দিকে এত ভয় শরীরে জ্বর নিশ্চই
একোনাইট দিয়ে রাখি কখন কি হয় ।
কাজু বাদামের ফেনী কিংবা মহূয়ার মত্ত সোমরস
না খেলে কিভাবে ছড়াবো আর
আধুনিক কবিতার তীব্র ফুলঝুড়ি
না বোঝা জীবনের গাঢ় অনুভূতি ।
মৃত মানুষের সাথে খই ফুল উড়ে যায়
বাতাসে রেখে যায় ফিনফিনে দুঃখ ,কিছু আনন্দ ইতিহাস ।
কবির মতন আর কে আছে বলো
বিনি পয়সায় উজাড় করে দিয়ে যায়
জীবনের গূঢ় অর্থ নিঃসার্থ ভালোবাসা ।
--------------------------------
86আমানত শুধুই নেশা,
কচুপাতায় জল অর্থহীন জীবন
প্রতিদিন অস্হিরতা ,কম্পমান জল
বাড়ছে কমছে রোজ ভাঙছে স্বপ্ন
আমানত শুধুই নেশা,বাড়াচ্ছে রক্তচাপ ।
তাই সঞ্চয় করেছি তাকে মৃত্তিকার তলে
ছোট ছোট খানা ডোবা ভরতে ভরতে
অবশেষে স্বপ্ন দেখি ভাকড়া নাঙ্গাল ।
আমার জলকে নিয়ে স্বপ্ন ঘেরা বাঁধ
চাষের যোগাবে জল শহরকে বিদ্যুৎ
ভূমিকম্প হলেও বাধঁ থাকবে অটুট ।
কচুপাতায় জল অর্থহীন জীবন
আমানত শুধুই নেশা,
আমি বানাচ্ছি ক্রমে ভাকড়া নাঙ্গাল ।
---------------------------
87 কোথাও পাইনি
রাজপথে কোলাহলে তোমাকে পাইনি আমি কোথাও
লালদীঘি ময়দানে কিংবা রবীন্দ্রসদনে ও
কলেজের এককোনে একাকীনি মনমরা দেখিনিত
বাস ট্রাম লাইব্রেরী কোনখানে হোল নাত পরিচয় ।
মনের মানুষ নেই বেদনায় আছি তাই নিশ্চুপ
সূর্য্যাস্তে রাঙানো মেঘ ,ফুলের উপরে অলি দেখিনি
তোমাকে খুজেঁছি শুধু উদভ্রান্ত হৃদয়ে হয়েছি নিষ্ফল ।
যা চেয়েছি চিরকাল আজকে হঠাৎ দেখি দরজায়
বসন্তের এ প্রভাত পাখীর কূজনে ,ফুলে একাকার ।
ভেবে দেখি এ বারেতে পেয়ে যাবো তোমাকে নিশ্চই ।
রচনা : ১৩/১০/১৯৭০
----------------------------
88
শৈশব সে কেটে গেছে আধো তন্দ্রা আধো জাগরণে
তারপর উত্তরণ কালের অজস্র কোটি কোষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে
নিহত সময় শিশুর বার্তা নিয়ে সাথে আমিও এলাম
রক্তের গভীরে ডাকে যৌবনের শঙ্খচিল প্রখর নিদাঘে ।
বিশ্বাসের মাঠে কত স্বপ্ন বোনা হয়ে আছে শৈশবের তীরে
তোলার সময় দেখি অলক্ষে কেটে গেছে কত কাল
পথের দিশারী মৃত ,বেদুইন আমি দেখি পথ একাকার
ময়দান মিছিলে এসে বিভ্রান্ত আমার চোখে আলোর নিশানা
হৃদয়ে রক্তের ডাক সুদীর্ঘ নদীর মতো সমুদ্র সংগমে
হাওয়ার ঘূর্ণী লেগে কমলা রঙের রোদ দেখি ম্রীয়মান
বিশ্বাসের বন্ধ্যা জমি নারীর হৃদয় পেয়ে করি ফিরে চাষ ।
রচনাকাল ১৯৭১
--------------------------
89 গতকাল এমনি সময়
এখন হৃদয়ে মনে আত্মরতির সুখ
ট্যালকাম পাউডারে তুলতুলে বিছানায় যেন শুয়ে আছি ।
স্মৃতির শিকড় গুলো হৃদয় জমির রস শুসে বেড়ে চলে
কল্পনার অল্প আলো তোমার আয়ত চোখ ভেসে ভেসে ওঠে ।
বৃষ্টির জলের প্রেম খানা ডোবা ভরে ওঠে কলকল করে ।
আমার যখনি যাওয়া ট্রেনে করে দিনরাত
কষ্ট হয় ছেড়ে যেতে ,ট্রেনের কামরা যেন করে হাহাকার ।
আমার স্পর্শ পাওয়া বিভন্ন ষ্টেশন, দূরের আকাশ
প্রেমের বন্ধনে দেখি ঠাঁই করে নেয় ।
ভেবে দেখি গতকাল এমনি সময়
তোমার হাসির ছোয়াঁয়
ট্রেনের সমস্ত আসবাব ধন্য হয়ে গেছে ।
রচনাকাল ১৯৭১
-------------------------
90 উটের বোঝা
বিবিক্ত নদীর সুরে একা পড়ে তীর ভূমি
তরঙ্গের পায়ে পায়ে শব্দোথ্থিত যুক্তির মালা
কল্পনার দৃশ্যপট হতে তাকে প্রাণ দিতে পারি
যদি আমি একা থাকি
শব্দের মালা দিয়ে কবিতা সাজাই ।
বেদনা বা উচ্ছাস প্রাণের বৃক্ষ থেকে
পরগাছা আবর্জণা হয়ে
বন্ধুদের কাছে যদি পরিত্রাণ চায়
সুরভিত ফুল কিংবা রসালো ফলের জন্ম
স্বপ্ন রয়ে যায় ।
তাই এই উটের বোঝা একাএকা
শিল্পী হয়ে চিরদিন বয়ে যেতে হবে ।
অন্তিম সাগর সুখে লক্ষ্য আছে ।
কিছু কবিত্ব কিছু সৌন্দর্য পৃথিবীকে
দিয়ে যেতে হবে ।
রচনাকাল 15.3.1971
--------------------------
Comments
Post a Comment