Skip to main content

দশটি কবিতা

ওসামা বিন লাদেন ।

ওসামা বিন লাদেন ।

মানব সভ্যতার কলঙ্ক ওসামা বিন লাদেন
তার খবর দিলে পঞ্চাশ লক্ষ্য ডলার ;
পশ্চিমবঙ্গের নেতারা তাই
মিছিল করে কাদেঁন ।
লাদেন করেনি কোন অন্যায়
তার নেই হাত কোন হামলায়
সে ত শিশুর মতোই নিষ্পাপ
চোখে আর মুখে
সাক্ষাৎ যীশুরই ছাপ ।

সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা
করে শুধু দাদাগিরি
সমস্ত পৃথিবী জানে  ।
আফগান তারা ধর্মটা খুব মানেন
অন্যায় কিছুই নেই
আশ্রয় পেয়েছে লাদেন ।
ড্রোণ ,বিমানে বোম পড়ছে শহরে গ্রামে গঞ্জে
নিরীহ মানুষ মরছে হাজার
আমেরিকার ছোড়া অস্ত্রে ।
সন্ত্রাস চালায় তেল আবিব সঙ্গে আমেরিকা
ইসলামাবাদ সঙ্গে দোশর ,খুজছে ওসামা ।
বিশ্ব জুড়ে প্রতিরোধ গড়ো বামপন্হীরা ডাকেন
শহর কাঁপিয়ে মিছিলে মিটিং এ
চীৎকারে গলা ফাটে
বাম নেতারা ময়দানে বসে হাপুস নয়নে কাঁদেন ।

রচনা : ২০০২ সালে ।

--------------------------------------------

মনুগুরুর জঙ্গলে

মনুগুরুর জঙ্গলে

মনুগুরুর জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে একদিন
আমরা গেলাম হারিয়ে ।
তোমার সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে  শ্রেয়া ;
বনভোজনে সবাই মশগুল রান্নার আয়োজন
টুকিটাকী কাজ ।
আমরা গল্প করতে করতে শুনলাম
তোমার সুরেলা গলায় রবীন্দ্রসংগীত
দুএকটা  স্বরচিত আমার কবিতা ।
আমি তোমাকে ম্যাজিক দেখাই কিছু বুদ্ধির খেলা ।
তুমি যে এত সহজে অভীভূত হবে বুঝতে পারিনি আমি ।

তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কিছুই মনে নেই আর
নিষিদ্ধ অলকানন্দে জলকেলী করে ছুঁয়েছি তোমাকে
স্বপ্ন সমুদ্রে ডুব দিয়ে উঠে একেবারে সোনালী বিকেল ।

বনভোজনের হট্টগোল সবাই ব্যস্ত তার নিজস্ব সুরে
আমরা ভুলিনি কিছু, আমাদের সুখের সংসার  ।

দুর্বাশার শাপ নিয়ে আমি ও
করবী এখনো বেঁচে আছি ;
পৃথিবীর দুই প্রান্তে ;ওষ্ঠে সুখ নিয়ে
আমাদের নির্বুদ্ধিতায় ।
 
------------------------------------------------------

কবে শেষ হবে

কবে শেষ হবে

বসে আছি একা আজ উন্মুক্ত প্রান্তরে
সূর্য্যের আসন্ন মৃত্যু ভেবে ভয় পাই
চতুর্দিকে ছেয়ে যাবে অমেয় আধাঁরে
কোনদিন উত্তরণ হবে না আলোতে ।

দূরে ঐ ধ্যানমগ্ন পোষ্টের আলোয়
কারা নাচে টুইষ্ট নাচ শব কাধেঁ নিয়ে
স্ফূর্তির বন্যা নামে মৃতদেহ ঘিরে
ভয় লাগে বড় ভয় এই দৃশ্য দেখে ।

এ কোন বাজীকরের অনিশ্চিত যাদু
ক্রমে ক্রমে টেনে নেবে সব আলো শুষে
ভাবি বসে কবে শেষ হবে এই খেলা
এই আলো এই মৃত্যু এই অন্ধকার মেলা ।

রচনা : ১১/৯/৭০

--------------------------------------------------------------

পন্ডীচেরী আশ্রম

পন্ডীচেরী আশ্রম

অরবিন্দের অমর কীর্তি পন্ডীচেরী ধাম
অনেক দার্শনিক তত্ত্ব বিদগ্ধ লেখনী
সবকিছু ছাপিয়ে যায় মানুষের ভালোবাসা ।
দূর দূরান্ত থেকে আসে শান্তির খোঁজে
দার্শনিক গূঢ় তত্ত্ব কিছু বোঝে বা না বোঝে ।
আশ্রমে ধ্যানমগ্ন ভক্তরা সবাই
সকাল সন্ধ্যায় কাটে ঘন্টা কয়েক ।
ভক্তির পরাকাষ্ঠা নিস্তব্ধ নিশ্চল ।
কী সেই বানী যার জন্য
ছুটে আসা হাজার মাইল ।
ভক্ত এবং কর্মীবৃন্দ ব্যস্ত সবাই
কাজ অকাজ ধ্যান আর আশ্রম বিহার ।
কী সেই বানী যার জন্য ছুটে আসা
নিয়ম মাফিক সব কাজ ফেলে রেখে
সব দায় দূরে ঠেলে এখানে হাজির ।
নেই কোন বানী ,নেই কোন স্তব
এ যেন মন্দির শুধু নিশ্চল নির্বাক ।

তাহলে শ্রী অরবিন্দ কি লিখেছেন এত
সে সব সহজ করে মানুষকে শেখানো যেত ।
ভক্তরা ধ্যান করে ভক্তরা আড্ডা মারে
প্রায় বিনে পয়সায় খাওয়া এবং থাকা ;
আরো কি রহস্য আছে জানে কর্মী বৃন্দ
ভক্তরা শান্তি খোঁজে এবং আনন্দ ।

20/11/2001 লেখা
--------------------------------------------------------

তোমার উচ্ছল ঢেউ

তোমার উচ্ছল ঢেউ

তোমার চোখে গভীর দীঘির কালো ছায়া
ক্যালেন্ডারের নেশার মতো মাদক তোমার শরীর
কালো রঙের স্কার্ট জাপটে আছে
কাজু বাদামের মতো হাঁটু ।
তোমার মুখ শ্রাবস্তীর কারুকাজ করা
অনন্য ভাস্কর্য্য ।

এর মধ্যে তুমি পাল্টে গেলে বাটিক প্রিন্টের শাড়ীতে ।
তোমার গভীরতা ক্রমশঃই বেড়ে গেলো
হয়ে গেলে খরস্রোতা নদী ।
নদীর দুপারে দাড়িয়ে আছে অজস্র বৃক্ষ বট
গভীর গোপন সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে জল ।
যদি ও নিজেকে নদীর তীর বলে জানি
তোমার উচ্ছল ঢেউ আটকাতে হবে আজ
পাহাড়ের সঙ্গে তাই করেছি সখ্যতা
পানসী সাজিয়ে যাই
নেমে যাই তোমার বুকের গভীরে ।

রচনা :১৯৭১সাল

 --------------------------------------------------------

তোমাদের অন্দরমহলে

তোমাদের অন্দরমহলে


কেমন করে এ গভীরতা হাত দিয়ে ছুইঁ
কেমন করে তোমার চোখের জল হাত দিয়ে মুছে দেই ,
কেমন করে এই অন্ধকার বিযুক্ত করে আনি আলো আর আলো ।
যুদ্ধ সে ত সমাপ্ত হয়ে আছে কাহিনী কথায়
পরাজিত সম্রাট ক্ষুরধার কথা দিয়ে কবিতা সাজায় ।
ভিখারিণী তার চোখের কোনায় দেখি গভীর বিষাদ ।
ভিক্ষুকের ভাঙ্গাপিঠ ,নুলো হাত দেখলে পরে পকেট হাতাই
কিছু ত দিতেই হয় ,কিছু কষ্ট যাক ঘুচে ।
কিন্তু এই অতল স্পর্শী অমেয় দুঃখ
কি করে মেটাবো আমি ;
সেই কথা ভেবে ভেবে আমি পৌঁছে যাই
একদিন তোমাদের অন্দরমহলে ।
কবিতার শব্দে নয় তোমাদের চেতনায়
স্বপ্ন হয়ে বেঁচে থাকতে চাই ।

--------------------------------------------------------

উচ্চাকাঙ্খা

উচ্চাকাঙ্খা

সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে গিয়ে করিনি খেয়াল
চারিদিকে আশেপাশে হিংস্র শ্বাপদ
কখনও বন্ধু বেশে চতুর শেয়াল;
সকলে চাইছে যেতে উপরে সিড়ির ।
তাইতো অদৃশ্য ল্যাং মারামারি ।
সুনিপুন দক্ষরাই জিতে যায় বাজী ।
তেলমাখা ,জাতপাত নোংরা টানাটানী ।
সাদাসিধে মানুষের শুধুই সাধনা ।
ধূরন্ধর ধড়িবাজ তাদের রমরমা ।
কঠিন কর্মক্ষেত্র,বঞ্চনা গঞ্জনা সার
উচ্চাকাঙ্খা করে মরি পিছনে সবার ।

সঙ্গে সাথী হিংস্র বাঘ শেয়াল শকুন ।
উচ্চাসন আশা ছেড়ে থাকো বহু দূর
কি দরকার সিঁড়ি ভাঙ্গার ;সঙ্কীর্ণ সে পথ
তাহলে এজীবন তোমার হবে নিরাপদ ।

রচনাকাল : ২০০২ সাল

---------------------------------------------------

বিড়ালের কবিতা লেখা

বিড়ালের কবিতা লেখা

পোষা বিড়ালটা সারাদিন  আমাকে লক্ষ্য করে
কখন কি খাচ্ছি আমি , অথবা
মুঠোফোনে কার সঙ্গে কি বলছি কথা ।

শুধুই পেটের চিন্তা কবিতা বোঝার নেই ঝামেলা ।
কখন একটা হুলো এসে  জানালায়
ইঙ্গিতে জানালো প্রেম
ওমনি সে দৌড়ে গেলো ;
কবিতার শব্দ নিয়ে চলবে এখন খেলা ।
শুধু পেটের চিন্তা নয়
ওরা শেষে কবিতাও লিখবে ।

https://www.facebook.com/panihaty
কবিতাটি ১১৯ বার পঠিত হয়েছে। 
-----------------------------------------------------

পরশপাথর

পরশপাথর

সব কিছু ঘরে ছিল তবু সুখ পাখী ছিল না বুকে
কি এক না পাওষার ব্যথা সারাক্ষণ মনের ভিতর
সকাল বিকেল রাত্রি যখনই সময় পাই হেঁটে যাই
মাইল মাইল পথ সমুদ্রের পার ঘেসে দূর অজানায়
কী এক পরশপাথর খুঁজে ফিরি নক্ষত্রের ভীড়ে
পাহাড়ের খাঁজ কেটে পার হই চড়াই উৎরাই ।
তারপর একদিন হঠাৎ আধাঁর নামে তমশাময় দিন
রাত্রির অন্ধকারে পরশপাথর আসে স্বপ্নে রঙীন ।

সমুদ্রের উথাল পাথাল ঢেউএ কেটে গেছে অনেক বছর
ক্যাকটাস গ্রান্ডি এমলোডোপিন পেনডুলাম চলে ঠিকঠাক ।
একদিন রাতে ফিনফিনে জোৎস্নায় আধো ঘুমে তুমি এলে
হাতে বুকে মাখামাখি নিয়ে গেলে  স্বপ্ন পুরী সমুদ্রের তলে ।
আমাকে জাগিয়ে দিলে অতল ঘুমের থেকে তুমি মায়াবিনী ।
উচ্ছল সমুদ্রের ফেনিল পিপাসায় গাঢ় আলিঙ্গন
আমাকে প্রশান্তি দেয় নিয়ে যায় নন্দন কানন ।

সব অসুখ সব ব্যাথা দীর্ঘ জীবনে না পাওয়ার গ্লানি
গোলাপ পাপড়ি ,অষ্টাদশী সুকন্যার বুকের পরাগ
মেখে নিয়ে অমৃত সাগরে কাটাই আনন্দ ঘন দিন ।
জীবন দেবতার আশীর্বাদ, তুমি অনন্যা এই যাত্রায়
শান্তির জাহাজ তুমি উত্তাল সমুদ্রে  রামধনু রঙীন  ।

--------------------------
কবিতাটি ৭৬ বার পঠিত হয়েছে। 
------------------------------------------------


তখন যাওয়ার সময়

তখন যাওয়ার সময়

সময় প্রসন্ন হলে আশে পাশে মানুষ ও গ্রহ
সবাই সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে দেবে হাত
তুমি না চাইতেই ৷
তারপর যখন একদিন উল্টো হাওয়া বইবে
পোড়া  শোল মাছ ও লাফিয়ে পালাবে নদীতে ।
পরিধেয় কাপড় খুলে ধরতে যাবে হাঁস
তোমাকে উলঙ্গ রেখে পালাবে আকাশে ;
ভাগ্যের এমনই পরিহাস ।

ভাগ্যের চাঁকা একদিন ঘুরবে
চাই ধৈর্য্য ও বল ।
সুসময় আসবে ঠিক ৷
সব না পাওয়ার দুঃখ
একদিন দূর হবে ।
অর্থ ,যশ ও সুখ সব এসে ধরা দেবে
হাতের মুঠোয় ।
কিন্তু তখন যে যাবার সময় ;
তরী নিয়ে ঘাটে বসে ভাগ্য বিধাতা ;
চাওয়া পাওয়া সব হিসাবের থলি
সঙ্গে নিয়ে তৈরী হও ; যেতে হবে বহু দূর
অজানা সে পথ ৷

Comments

Popular posts from this blog

বাংলা কবিতা --নিখিল বিশ্বাস

আসুরিক উৎসব