Posts

Showing posts from 2018

বজ্রহানা দাও

91  রুক্মীনি ও রাধা কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে গেলে রাধা কাঁদে বসে রুক্মীনিকে কেড়ে এনে তাকেই ভালোবাসে । মথুরার বিদর্ভ কন্যা তাকেই বিয়ে করে শ্রীকৃষ্ণ রাধার প্রেম সব কি তবে মিছে ? মহাভারতে ঠাঁই হয়নি রাধার প্রেমগাথা পুরাণ বলে যে রুক্মীনি সেই ছিল রাধা । ------------------------- 92  অনন্য উপহার তখন একমাত্র পুত্রই সব ধ্যানজ্ঞান স্বামী,কন্যা আর সবাই নেহাৎই ফেলনা । পুত্রকে ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার নয়তো বড় অফিসার করতে হবে , সব চাইতে ভালো স্কুল ,কলেজ,এবং শিক্ষক চাই । উদায়স্ত খেটে স্বামীর নাভিশ্বাস তবু ও চলে না । রমা টিউশনী ধরে, রান্নার মাসী ছাঁটাই ছেলের শিক্ষায় যেন না হয় কোন খামতী । অবহেলা আর অফুরন্ত পরিশ্রম শেষে একদিন স্বামী সংসার ছেড়ে চির বিদায় নেয় হঠাৎ । ততদিনে ছেলে স্বয়ংম্ভর,ভাল চাকরী ভাল বিয়ে সংসার ফুরফুরে প্রজাপতির মতো রঙীন । বছর না ঘুরতেই বৌমার আসল চেহারা একটু একটু করে , এখন ছেলের আর সময় হয় না মাকে দেখবার , সে এখন ব্যস্ত তার বৌ ,মেয়ে ,কর্মজীবন ঘর দোর সাজানো,অতিথি আপ্যায়ন বৌয়ের সেবা । রমার নাওয়া খাওয়ার ঠিক নেই ,অসুস্হ শরীর । বৌ ঠিকমতো খেতে দেয় না তার খবর ক...

উটের বোঝা

83 সে আশায় গাছের মতন আমি ছায়া ফেলি সূর্যের ইঙ্গিতে হৃদয়ে জমানো ইচ্ছে বেহিসাবী হওয়া নয় কিছুতেই ভাবাবেগ তবু আসে ইপ্শিত কামনার দাহ নিয়ে হিসাবের চোরাবালী নিঃশব্দে কথা বলে বুকের ভিতর । ঘনঘন নাড়া দেয় পাইনি কি এতদিন সেই ব্যথা মুহূর্তে মনেহয় আমিই ত স্রষ্টা সমস্ত অলীক পদানত এ পৃথিবী আমারই ছোয়াঁয় বাচে প্রতিদিন হিমাদ্রী শেখর আমি কেন এই সংশয় কেন সন্দেহ । খুশির ছোঁয়াতে তুমি জানি ঠিক ফোটাবে কুসুম বুকে স্বপ্নের মাঝে আমি অবহেলে ওষ্ঠে আঁকিব চুম্বন পক্ষীশাবক হবে আঙুলের মাঝ খানে কবে তুমি সারাদিন সে আশায় ঘুড়ি আমি তোমার চতুর্দিকে । রচনা : December 1971 ------------------------ 84 নালন্দার ভগ্নস্তূপে নালন্দার ভগ্নস্তূপে ইতিহাস কথা বলে প্রত্যহ প্রত্যূষে ; অতীতের মর্মবাণী হৃদয়ে কী অনুভূতি দিলো আজ আনি । অধ্যয়ন গৃহে যেতে প্রতিদিন বুদ্ধের স্তব ,ধ্যান অমলিন । এরাই ত ছাত্র ছিল বটে ভেসে ওঠে অন্তর্ধাণ পটে শিক্ষার কী অসীম আগ্রহ সুদূর সিংহল চীন বুদ্ধের বিগ্রহ হতে নানা শাস্ত্রেতে পন্ডিত ; কালের কবল হতে এখন ও যে গৃহের ভিত আমাদর মুগ্ধো করে ছড়ায় সৌরভ তাহাতেই বুঝে নিই সুমহান ভারতের অতীত গৌরব । এ বিশাল কীর্তি বিভিন্ন রাজাদ...

আসুরিক উৎসব

বড় হয়ে গেছি সেদিন ও সবাই বলতো আমায় ছোট অথচ আজকে বড় হয়ে গেছি দেখ । একটা কিংবা কেটেছে বর্ষা দুটি বড়রা এখন বলছে আমায় 'তুমি' রাস্তা বাজারে ডাকছে না কেউ 'খোকা' 'আপনি',বড়দা সসন্মানে ডেকে রাজনীতি আর আধুনিক নানা কথা । ভেবে ভেবে মাঝে হাসিটা চাপছি আমি কলেজে যাচ্ছি গোঁফ দাড়িঁ কাটি রোজ ভারী ভারী সব বিদেশী পড়ার বই কবিতা কখনও লিখি চুপিসাড়ে বসে আধুনিক কোন মেয়ে দেখলেই । পাড়ার শিশুরা তাইতো বলছে 'দাদা' অথচ এসব কখন কিভাবে হলো জানিনা কিছুই ;কেন যে হলাম বড়ো ? রচনাকাল : ৩/৯/১৯৭০ ------------------- 70 নবরাগে একঘেয়ে জীবনেতে তুমি আর আমি রোজ দেখি দুজনাকে ,সবটুকু জানি । ভালো এবং মন্দ কি তোমার কাজ অবসর কিসে কাটে কিছু আন্দাজ । কিছু দেখি প্রতিদিন কিছু নেই শুনে জীবনের হাটে বসে কড়ি নেই গুনে । পুকুরের পদ্মফুল হেসে লুটিপুটি দেখিনা তাকিয়ে ওতে শোভা কত ফুটি । সেদিনও এমনিভাবে গঙ্গার পাড়ে মহৃয়া আমার হাতে পড়ছি বিজনে । দেখি তুমি আনমনা প্রকৃতির সাথে আশ্চর্য তোমার ও দেখি কবিতা কি হাতে । দেখি আজ নবরাগে পাখীর কূজণে তুমি আর আমি চিনি দুজনা দুজনে । রচনাকাল : ৪/২/১৯৭১ ------------------------------ 7...

কে দেবে উত্তর

নির্জণ দ্বীপে - নিখিল বিশ্বাস । নির্জণ দ্বীপে এভাবে নির্জণ দ্বীপে রবিনসনস ক্রুশো হয়ে জীবন কাটাবে ? চতুর্দিকে মন্ত্র উচ্চারণ হিন্দী গানের সুর মানুষ নাচায় ৷ তুমি স্বপ্নে জাগো শব্দরা বন্দী আছে যাদুর মায়ায় ইতিহাস উঠে আসে কী এক ধোঁয়ার জাল চতুর্দিকে ৷ আঠারো বয়সটাই পাঁচ জন বন্ধুদের সঙ্গে ডুবে থাকা ক্লাবে কয়েক ঘন্টা ,রাস্তায় কিংবা হয়তো কফির ধোঁয়ায় জীবনটা দেখে নেওয়া দু একটা ফাঁক ফোঁক পাতার আড়ালে সরীসৃপ ক্রমান্বয়ে চলে যাচ্ছে ফিটফাট গাধার জীবনে ৷ চতুর্দিকে বৃষ্টি হয় ঝমঝম সাদা আলো চাঁদের আড়ালে জানলার বাইরে দেখো উদ্ভীন্ন যুবতী রাত একা বসে আছে কবিতার বই নিয়ে রজনীগন্ধার মতো তোমার অপেক্ষায় ৷ --------- রচনাকাল 26/1/1972 ------------------------------------------------------ জন্তুরা তবু সুখে - নিখিল বিশ্বাস । জন্তুরা তবু সুখে বাড়ীর ছেলে বেড়ালটা সভ্য ভদ্র, সারাক্ষণ থাকে ভয়ে কখন মস্তান হুলো বাঘ বিক্রমে এসে ঘাড়টা দেবে মটকে মেনি বেড়াল দুটোর ভয় নেই তারা সম্রাজ্ঞীর মতো বসে হুমদো হুলো বেজায় ভদ্র ,প্রেমিকের মতো থাকে  চেয়ে ৷ রাস্তাঘাটে সারমেয়...

দশটি কবিতা

ওসামা বিন লাদেন । - নিখিল বিশ্বাস । ওসামা বিন লাদেন । মানব সভ্যতার কলঙ্ক ওসামা বিন লাদেন তার খবর দিলে পঞ্চাশ লক্ষ্য ডলার ; পশ্চিমবঙ্গের নেতারা তাই মিছিল করে কাদেঁন । লাদেন করেনি কোন অন্যায় তার নেই হাত কোন হামলায় সে ত শিশুর মতোই নিষ্পাপ চোখে আর মুখে সাক্ষাৎ যীশুরই ছাপ । সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা করে শুধু দাদাগিরি সমস্ত পৃথিবী জানে  । আফগান তারা ধর্মটা খুব মানেন অন্যায় কিছুই নেই আশ্রয় পেয়েছে লাদেন । ড্রোণ ,বিমানে বোম পড়ছে শহরে গ্রামে গঞ্জে নিরীহ মানুষ মরছে হাজার আমেরিকার ছোড়া অস্ত্রে । সন্ত্রাস চালায় তেল আবিব সঙ্গে আমেরিকা ইসলামাবাদ সঙ্গে দোশর ,খুজছে ওসামা । বিশ্ব জুড়ে প্রতিরোধ গড়ো বামপন্হীরা ডাকেন শহর কাঁপিয়ে মিছিলে মিটিং এ চীৎকারে গলা ফাটে বাম নেতারা ময়দানে বসে হাপুস নয়নে কাঁদেন । রচনা : ২০০২ সালে । -------------------------------------------- মনুগুরুর জঙ্গলে - নিখিল বিশ্বাস । মনুগুরুর জঙ্গলে মনুগুরুর জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে একদিন আমরা গেলাম হারিয়ে । তোমার সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে  শ্রেয়া ; বনভোজনে সবাই মশগুল রান্নার আয়োজন টুকিটাকী...

বাংলা কবিতা --নিখিল বিশ্বাস

বঙ্গদেশের রঙ্গ ৷ 30/4/2018                  নিখিল বিশ্বাস মুহূ্রতে্ ধূলিস্যাৎ গগনচুম্বি মা্রকি্ন দুই বহুতল আমেরিকা হতভম্ব পৃথিবীর শতকোটী মানব বিহ্বল ৷ ধূর্তনীতি নিয়ে প্রাগ্যময় বামেরা ভীষণ অস্থীর কাশ্মীর পাকিস্থান আইসিস হিংসার কদর্য শরীর ৷ নক্ষত্রেরা মরে গেলে অসীম অন্ধকার অতল গহ্বর ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি নিষে পন্ডিতের বিতর্ক জীবন নশ্বর । বুদ্ধ যীশু মহাম্মদ এদের দেখানো পথে এখনো পৃথিবী কিছু উগ্র বিধর্মির রক্তে বাজে ঘৃণা আর অন্ধ প্রতিশোধ৷ কলকাতা মায়াময় ওসামাকে ভালোবাসে প্রাণের গভীরে বজ্রমুষ্ঠী শূন্যে তুলে ময়দানে প্রতিবাদ মিছিল মিটিং এ । আমেরিকা নিপাত যাক ,ভীষণ গর্জণ তোলে শৃন্যকূম্ভ বাম  ক্ষমতার অলিন্দে কূম্ভীরাশ্রু পাত করে  নেতৃ অবিরাম । বুদ্ধিজীবি হতবাক কার্য্য কারণ সম্পর্কে থাকে মশগুল লজ্জা আর নাসরিণ মুখ ঢাকে পৃথিবীর গুপ্ত কোনায় । ত্রিশূল নাচিয়ে বঙ্গ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে ক্ষমতার মাপ  রাজনীতি মৌলবাদ ভোটের আসর নিয়ে বকছে প্রলাপ ৷ বিদ্র : ২০০১ সালে লেখা পরিমার্জণ ২৬/৪/২০১৮ ...