আসুরিক উৎসব

বড় হয়ে গেছি

সেদিন ও সবাই বলতো আমায় ছোট
অথচ আজকে বড় হয়ে গেছি দেখ ।
একটা কিংবা কেটেছে বর্ষা দুটি
বড়রা এখন বলছে আমায় 'তুমি'
রাস্তা বাজারে ডাকছে না কেউ 'খোকা'
'আপনি',বড়দা সসন্মানে ডেকে
রাজনীতি আর আধুনিক নানা কথা ।

ভেবে ভেবে মাঝে হাসিটা চাপছি আমি
কলেজে যাচ্ছি গোঁফ দাড়িঁ কাটি রোজ
ভারী ভারী সব বিদেশী পড়ার বই
কবিতা কখনও লিখি চুপিসাড়ে বসে
আধুনিক কোন মেয়ে দেখলেই ।

পাড়ার শিশুরা তাইতো বলছে 'দাদা'
অথচ এসব কখন কিভাবে হলো
জানিনা কিছুই ;কেন যে হলাম বড়ো ?

রচনাকাল : ৩/৯/১৯৭০
-------------------

70 নবরাগে

একঘেয়ে জীবনেতে তুমি আর আমি
রোজ দেখি দুজনাকে ,সবটুকু জানি ।
ভালো এবং মন্দ কি তোমার কাজ
অবসর কিসে কাটে কিছু আন্দাজ ।
কিছু দেখি প্রতিদিন কিছু নেই শুনে
জীবনের হাটে বসে কড়ি নেই গুনে ।
পুকুরের পদ্মফুল হেসে লুটিপুটি
দেখিনা তাকিয়ে ওতে শোভা কত ফুটি ।

সেদিনও এমনিভাবে গঙ্গার পাড়ে
মহৃয়া আমার হাতে পড়ছি বিজনে ।
দেখি তুমি আনমনা প্রকৃতির সাথে
আশ্চর্য তোমার ও দেখি কবিতা কি হাতে ।
দেখি আজ নবরাগে পাখীর কূজণে
তুমি আর আমি চিনি দুজনা দুজনে ।

রচনাকাল : ৪/২/১৯৭১
------------------------------

71 টাকার মূল্য

সে এক অমোঘ কথা আশ্চর্য বাস্তব
জীবন চলার পথে বড় হাতিয়ার
বিকল্প চলে না তার এইটাই ধ্রুব
জীবনের প্রতি ধাপে টাকা চাই টাকা ।

প্রতিভার স্ফূরণ ও বন্ধ হয়ে যাবে
উপহাস অবজ্ঞায় পিষ্ঠ হয়ে যাবে
কখনও বা করুনার হিমেল তূষার
তোমার অস্তিত্ত্ব করবে বিলোপ ।

টাকা নিয়ে অবহেলা ,ঠকবেই জেনো
একদিন একথাটা সূর্যের  মতো
সাময়িক অন্ধকার কাটিয়েই ঠিক
তোমাকে সে জানাবেই সত্য অমোঘ ।

দারিদ্র অনাহার অপুষ্টিতে ঘেরা
সে বাচাঁটা বাঁচা নয় মূর্খ হেলাফেলা
যতই পন্ডিত হও সুখ পেতে হলে
জীবনে দাড়াঁতে হবে ধনীর সন্মানে ।


রচনাকাল : ৩০/৬/১৯৭০
-----------------------
72  এসো মা জননী

পথেতে এখনও বুভুক্ষু শিশু  কেঁদে কেঁদে ঘুম যায়
জননী তাহার শিয়রে বসিয়া চিন্তাতে নিরুপায় ।
আলোর পিছনে জমা হয়ে আছে অনেক অন্ধকার
সেখানে এখনও কেউ যায় নিকো রয়েছে বন্ধ দ্বার ।

এদের দুঃখের ইতিহাস লিখে কতকি খেতাব পায়
পন্ডিত গুনী মানীদের কিছু এদের দিয়েই আয় ।
আসেনিকো আজো এমন দিনটি প্রতিবাদ সবে করে
ভেঙ্গে চূরে দিয়ে কেড়ে মেরে নিয়ে নিজের পেটটি ভরে ।

এসো মা জননী বরাভয় দাও নূতন শারদ দিনে
দূর্ভাগা যতো তোমার আশিসে পথটাকে নেবে চিনে ।

রচনাকাল : ১০/৮/১৯৭০

--------------------------------------
73 যুদ্ধে শহীদ হবো  P 07/06/2018

বন্ধ্যা সময়ের হাত ধরে চলতে চলতে
কেটে গেছে অনেক বছর ।
শ্যাওলা জমে গেছে আজ হৃদয়ে শরীরে ।
ভালোবাসা অস্ফূট কোরকে একদিন
গচ্ছিত রেখেছিলাম তোমার মন্দিরে ,
পদদলে পিষ্ট করে দুহাতে সরিয়ে দিয়ে
গিয়েছিলে অন্য বনভূমি ;
পৃথিবীকে চেয়েছিলে সহস্র দৃষ্টিতে
 চুমুক দিতে চেয়েছিলে অমৃত ভান্ডার ।

আমার লাঞ্চিত প্রেম একদিন প্রতিষ্ঠা পাবে,
বিদীর্ণ হবে তোমার হৃদয় ।
বসে আছি পৃথিবীর কিনারায়,
সামঞ্জস্য বিহীন এক সৃষ্টিহীন সময়ের পথে ।

পান্ডুর মতো পিতৃত্ব চাইনা আমি ,চাইনা পঞ্চ পান্ডব
যুদ্ধে শহীদ হবো ,তোমার আকাশে রব চির ভাস্বর ।



---------------------------

74 ধরণী দ্বিধা হও

এক সময় এই বাংলাই ছিল
পথপ্রদর্শক সব ব্যাপারেই
পঞ্চাশ বছর আগে ও ।

বাম জমানা ও তৃনমূলী সস্ত্রাস
অশিক্ষিত বর্বর
 কানকাটা সব নেতা
বাঙ্গালী আজ বড়ই লজ্জায় ।

সারদা  নারদা রোজভ্যালী
গনতন্ত্রের গলা টিপে ছাপ্পাভোট
তার পরে ও চীৎকার চেচামেচি
বিরোধীদের ঘার ধাক্কা আর গালাগালি ।

সামান্য পঞ্চায়েত নিয়ে
এত যুদ্ধ এত রক্তক্ষয়
৩৫৬ ধারা কি লুপ্তপ্রায় ?
বাতিলের খাতায় ?

প্রধান মন্ত্রী হওয়ারও সখ
জোট ঘোট ,পিশীমার
লজ্জার কিছু বাকী নেই আর
ধরণী দ্বিধা হও ।
---------------------

75 বাংলা ভাগাড় আজ P 22/5/2018

ভাগাড়ের মাংস নিয়ে এত হৈ চৈ ?
পার্ক স্ট্রীটে অর্কেষ্ট্রায়
আধো আলো আধো অন্ধকারে
আধা ন্যাংটো সুন্দরীর
নাচের ছন্দে বাজে রোজ
সিনেমা সঙ্গীত ।
মৃত পচা কুকুর বেড়াল
গরু মোষ হাঁস মুরগী
সবই বেশ  উপাদেয়
 সঙ্গে থাকে পানীয় রঙীন ।

বিরিয়ানীর রমরমা
শহর গ্রাম প্রান্তর
সুগন্ধে ভেসে যায়
গন্ধে ম ম করে
নর্দমার ক্লেদ
কোথায় ভাগাড় ?

ভাগার আজ সব খানে
শুধু দেখো চোখ খুলে ।
ডাক্তার হসপিটাল
জ্যোতিষী ,পুরোহিত
রাজনীতি নেতা মন্ত্রী
সব ভাগাড়ের পচা মাল ।
বাংলা ভাগাড় আজ
বেঁচে আছে লজ্জায়
ভাগাড়ের অংশ হয়ে
ভাগাড়ের মাংস খেয়ে
পরিতৃপ্ততায় ।

-------------------

'প্রনব বাবু জমাদার
রগচটা আর ব্যাঁকা ঘাড়
ভুলের খবর পায় যদি সে
পোষ্ট দিয়ে যায় এই আসরে'
হাসতে হাসতে পেট ফেটে যায়
কবীর হুমায়ূন বুঝি খাবি খায়
কবিতার আসরের সব ধ্যান জ্ঞান
ক্লেরিহিউ প্রশংসায় সবাই জমান  ।
---------------------
76 কবিতার খাতা

লুকোচুরি খেলতে হচ্ছে অফিস বাড়ীতে
সারাক্ষন ছুটোছুটি কাজকর্ম ট্রেন বাস
কবিতার খাতা আর খোলা হয় না ।
ফিটফাট সাদা ড্রেস শুল্ক আর প্যাসেঞ্জার
লাল সাদা সবুজের বিভিন্ন হিসেব ।
কখন ও তুমুল আড্ডা মদ তাস রামী খেলা
কেটে যায় অলীক সুখের মৌতাত ।

মাঝে মাঝে ছুটীর দিন অবিশ্বাস্য শুয়ে থাকি
এলোমেলো চিন্তা করি,
কবিতার শব্দ নিয়ে করি নানা খেলা ।
বাড়ীতে অন্ধকার ,মশা ,মাছি ,অসহ্য চীৎকার
আমাকে নাড়িয়ে দেয় ।
এলোমেলো করে দেয় চিন্তার ছক ।
কবিতার জন্য এক মনোনীত ক্যানভাস
অবশেষে এই ভাবে দীর্ণ হয়ে যায় ।
কবিতার খাতা আর খোলা হয় না
অফিস বাড়ী করতে করতে কেটে যায় সমস্ত জীবন ।

রচনাকাল : 1973
------------------------------
77 পৃথিবী এখনো ঘোরে

পৃথিবী এখনো ঘোরে তাই ভাবি বসে
জীবন তবু ও চলে থেমে সে ত নেই
আকাশে চন্দ্র তাঁরা তবু কেন ওঠে
প্রশ্ন নিয়ে সারাক্ষন আবিষ্ট এ মন ।

যৌবনের মৃত্যু নেই নেই মৃত্যু ভয়
অফুরাণ খুশী ওড়ে শহর উদ্বেল
হাতে হাত ধরে ওরা নিশ্চিন্ত আপন
সমুদ্র তরঙ্গ মালা ঠোটের হাসিতে ।

সন্ধ্যার শহর যেন বাধ ভাঙ্গা নদী
দোকানে ও রাস্তায় সুন্দরীর ভীড়
সিনেমায় ফেটে যায় বেরসিক বোমা
জীবনে আশার আলো তবু ঝিকমিক ।

বেঁচে থাকা আনন্দের তাই ভাবি মনে
যদিও মৃত্যুভয় চলন্ত নিঃশ্বাসে
উল্লাসে গান গাই রবীন্দ্র সঙ্গীত
জীবন সফল হবে মঙ্গল আলোকে ।

কিন্ত কখন ও তবু উদাসী বিকেল
থমথমে মেঘ করে আকাশের বুকে
মনেহয় প্রেতাত্মা এ গত জীবনের
আমরা সবাই বসে কবরের নীচে ।

রচনাকাল : 1971
--------------------
78
অস্হির দিন

এখন অস্হির দিন উলঙ্গ প্রদীপ
অপর্যাপ্ত আলো তার কাঁপে অবিরাম
কখন হঠাৎ হাওয়া মুছে দেবে সব
একটি তুলির টানে গাঢ় অন্ধকার ।

অহর্নিশ এ বিবাদ কার নীতি ভালো
শ্রমিক চাষীর ভালো সকলেই চায়
অথচ বেকুব হই তাই নিয়ে খুন
বাসে ট্রেনে রোজ দেখি জ্বলছে আগুন ।

আর কোন কাজ কিংবা নেশা হবি নেই
তরুণ যুবক বৃন্দ বৃদ্ধ বয়সেও
রাজনীতি মারপিট ছোরা বোমা গুলি
নেতা মন্ত্রী প্রশাসন চোখে পরে ঠুলি ।

এ সবই অস্হিরতা থেমে যাবে জানি
জ্যোৎস্নায় ভেসে যাবে বিশ্ব চরাচর
আবার হাস্নুহানায় মিষ্টি সুবাস
প্রাণ মন ভরে দেবে নিশ্চিন্ত আশ্বাস ।  

রচনাকাল : 1971
------------------------- 

79 কারখানায় লক আউট


 কাক ভোরে আর উঠি না
কারখানায় লক আউট
সূর্য্যর স্মিত হাসি ভোরের নরম রোদ ভালোবাসি ।
ঘূম থেকে উঠলে প্রাতঃকাজ
এবং তারপরেই ক্ষুধার দানব
ঘরে যে খাবার নেই ।
এখন ও ঘুমোচ্ছে অবোধ শিশু
একটু পরেই কাদঁবে খাবার চাই
অথচ কি করবো,কিছুই করার নেই ।
পারিজাত উঠোনে ছড়াচ্ছে সাদা মিষ্টি ঘ্রাণ
ভোরের হাওয়ায় ভাসছে আশ্বিনের গান ।
ক্ষনিকের এই কষ্ট কেটে যাবে ঠিক
মুঠো ভরা সুখ আবার আসবে নিশ্চই ।
আবার কারখানায় ধোঁয়া উঠবে
সবাই দল বেধেঁ যাবো কাজে ।
বাচ্ছাটা সেই থেকে কাদঁছে
একদিন খাবার জুটবেই ও জানে না ।

  ----------------------

80
     সময়ই সব
           
পাঞ্চালীর বস্ত্র হরণে সবাই দেখেছে তামাশা
পরাক্রমশালী পঞ্চপান্ডব লজ্জায় লুকোয় মুখ
পরিত্রাতা শেষে সেই শ্রীকৃষ্ণ সবার অলক্ষে
রক্ষা পেয়েছে কূলবধূর লাজ লজ্জা ও মর্যাদা
যদিও রক্ষা পায়নি কুরু বংশ অবশেষে ।
পান্ডবদের পক্ষ নিয়ে নিজের বুদ্ধি ও কৌশলে
ধ্বংস করেছেন কুরুবংশ যাদের পক্ষে ছিল
পৃথিবীর সেরা পরাক্রম শালী সব বীর ও যোদ্ধা ।

প্রদ্যুম্ন নিজের ছেলে ছদিন বয়সেই চুরি হয়
শম্বর অসুর তাকে ফেলে দেয় সমুদ্রের অতল গভীরে ;
বিশ্বজয়ী সুদর্শনচক্রধারী কিছুই করতে পারেন না ।

সময়ই সব কিছু নির্ণয় করে সবাই নিমিত্ত মাত্র
সময়ই শ্রীকৃষ্ণ ,ব্রহ্মা,বিষ্ণু এবং মহেশ্বর ।
একদিন আমার ও সময় ছিল ,ছিল রাজ্যপাট
এখন চামচিকা মৃদু হাসে দেখে যায় আমার ললাট ।
--------------------------

81 বিষাক্ত নাগিন

সখী তোমার ঠোটের ওই প্রজাপতি হাসি
নিশ্চই আমার হৃদয়কে তোলপাড় করে
আমাকে রোমাঞ্চিত করে
স্বপ্নে দুলি আমি নাগরদোলায় ।
তরঙ্গায়িত দেহে তোমার
বাজতে থাকে বীণা
হাটাঁর ছন্দে ফোটে নৃত্যের তাল
তবুও তোমার তনুর প্রসাদ চাই না ।

তোমার সরু নিরাভরণ কটিদেশ
কাঞ্চনের মতো মূল্যবান মনে হলে ও
ওখানে বিষাক্ত নাগিন ওত পেতে আছে
এই চিন্তাতে সখী ক্রমশঃই আমি দূরে চলে যাই ।
দাবানলে ছুড়ে ফেলি যা আমার একান্ত আপন ।
আবার পড়ার বইএ মনোযোগ দিই
জটিল অঙ্ক কষি
সূত্র ধরে শেষ করি সব প্রশ্নাবলী ।



 রচনাকাল :       1/9/1970
----------------------------

82 আসুরিক উৎসব

আবার সেই জনস্রোত নারী পুরূষ আলো মাইক
চোখ ধাধাঁনো বাজী ,বোমা,কেউ জ্বালাচ্ছে ছুঁছো তুবড়ী
সরকারের পরিবার পরিকল্পনা ব্যর্থ ;
রাস্তায় পিপঁড়ের সাড়ি
পৃজো একদিন রাতভোর জনস্রোত সাতদিন ।
রূগ্ন ব্যক্তি মাইকের যুদ্ধ দামামা শুনতে শুনতে মৃতপ্রায়
আনন্দের এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব অথচ ওদিকে
অন্ধকার এঁদো গলিতে মানুষগুলো সংগ্রামে বিদ্ধস্ত ।
একটানা এ উৎসবে ওরা অনাহূত ওরা চাইছে প্রলয় ।

শহরের সব দোকানে চাদাঁর জুলুম অন্যায় আবদার
প্রত্যেককে দিতে হবে নতুবা উৎপীড়ন অত্যাচার ।
ক্ষোভ গোমড়ানো ধিকিধিকি প্রতিবাদ চাই তীব্র
দাড়াঁতে হবে রুখে ,দরকারে পূজো বন্ধ
এমন পূজোর নেই দরকার ।

আসুরিক এ উৎসব নয় আর অযথা কেন অপচয়
বীভৎস আলোর স্রোতে কান্নার কলরোল অভাগার চোখে ।
ওদের দেওয়া অভিশাপ বিদ্রোহের রূপ নেবে কোন একদিন
বিবেক বলে কি কিছু নেই আর হৃদয় কি লোহার পিঞ্জর ?

Comments

Popular posts from this blog

বাংলা কবিতা --নিখিল বিশ্বাস

দশটি কবিতা