বাংলা কবিতা --নিখিল বিশ্বাস


বঙ্গদেশের রঙ্গ ৷ 30/4/2018




                 নিখিল বিশ্বাস

মুহূ্রতে্ ধূলিস্যাৎ গগনচুম্বি মা্রকি্ন দুই বহুতল
আমেরিকা হতভম্ব পৃথিবীর শতকোটী মানব বিহ্বল ৷
ধূর্তনীতি নিয়ে প্রাগ্যময় বামেরা ভীষণ অস্থীর
কাশ্মীর পাকিস্থান আইসিস হিংসার কদর্য শরীর ৷

নক্ষত্রেরা মরে গেলে অসীম অন্ধকার অতল গহ্বর
ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি নিষে পন্ডিতের বিতর্ক জীবন নশ্বর ।
বুদ্ধ যীশু মহাম্মদ এদের দেখানো পথে এখনো পৃথিবী
কিছু উগ্র বিধর্মির রক্তে বাজে ঘৃণা আর অন্ধ প্রতিশোধ৷

কলকাতা মায়াময় ওসামাকে ভালোবাসে প্রাণের গভীরে
বজ্রমুষ্ঠী শূন্যে তুলে ময়দানে প্রতিবাদ মিছিল মিটিং এ ।
আমেরিকা নিপাত যাক ,ভীষণ গর্জণ তোলে শৃন্যকূম্ভ বাম 
ক্ষমতার অলিন্দে কূম্ভীরাশ্রু পাত করে  নেতৃ অবিরাম ।


বুদ্ধিজীবি হতবাক কার্য্য কারণ সম্পর্কে থাকে মশগুল
লজ্জা আর নাসরিণ মুখ ঢাকে পৃথিবীর গুপ্ত কোনায় ।
ত্রিশূল নাচিয়ে বঙ্গ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে ক্ষমতার মাপ 
রাজনীতি মৌলবাদ ভোটের আসর নিয়ে বকছে প্রলাপ ৷

বিদ্র : ২০০১ সালে লেখা পরিমার্জণ ২৬/৪/২০১৮



পরশমণি ৷ p
        নিখিল বিশ্বাস

বাসে উঠলে একটাই স্বপ্ন কোন সীটে বসা যায়
কোন রমনীর উষ্ণ শরীর ঘেসে দাঁড়ানো যায় অবজ্ঞায়
বাসের ঝাকুনী হঠাৎ হাওয়ার ব্রেক
রমনীয় ঘ্রাণটুকু শুষে নাও প্রাণে ৷
বসতে না পারলে দুঃখ নেই ,আনন্দের হাট  সরবত্র ছডিয়ে ৷
বাসে উঠলে শুধুই মতলব কোন সীট হবে খালি৷

কাকচরিত্র বুঝতে শেখ, লজজার মাথা খেয়ে জেনে নাও
কোথায় নামবে কখন ৷
কাধেঁ রাখবে একটা ঝুলন্ত ব্যাগ মস্ত ঢাউস
সেটা দিয়ে সন্তর্পনে গুতো দিয়ে চলে যাও
অনদরমহলে ,প্রারথিত আঘ্রাণ নিতে
মেয়েদের কাঁধে একটা হাতে একটা
অবশ্যই দুটো ব্যাগ থাকা চাই কী এক রহস্য আছে ,
একদিন খুলে দেখে নিতে হবে ৷

যাত্রীদের য্ন্ত্র্ণা বাড়ে ,বাস যত আস্তে চলে
রাস্তায় বিষঁধোয়া ,সকলের প্রাণ ওষ্ঠাগত ৷

এর মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে স্বপ্ন দেখে জীবন সৈনিক
কাঙখিত পরশমণি হাতের মুঠোয় ধরা হঠাৎ সজীব ৷

----------------------------------

 অদৃশ্য ভগ্নদূত ৷p
            নিখিল বিশ্বাস


অফিসে রোজ যেতে হয় ,ধূলো,ময়লা আর ডিজেলের ধোঁয়া
রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম,মিছিল মিটিংয়ে বিদ্ধ সমস্ত শহর ৷
সকালে বাজারে যাই ব্যাগ হাতে তাড়াতাড়ি চা খাওয়ার পর
যদিও বুকের বা দিকে ব্যাথা ভোলে না  অনুক্ষণ ৷
ডাক্তারের উপদেশে সিগারেট অবশেষে বন্ধুত্ব হারায়
প্র্র্র্রাণায়াম,ক্রাটিগাস সর্বদা সাবধান ,খাওয়া পবিমিত ৷
বুকের ব্যথা কমে গেলে শেষে আবার ধরাই সিগারেট
এমনি করে লুকোচুরি খেলি জীবন কখনও মৃত্যু ৷

দিনরাত্রি আমার পিছনে কে যেন ছায়ার মতো
কারো অদৃশ্য হাত আমার কাধের উপর
সযত্নে সুবিন্নস্ত ৷
মিনিবাসে রূপসীর খোলা পিঠ সমুদ্রের বেলাভূমি
আমাকে বিদগ্ধ করে নিয়ে যায় দীঘার সৈকতে ৷
ডিজেলের ধোয়া যেই নাকে যায় বুকে ব্যথা ওঠে
অদৃশ্য ভগ্নদূত হেসে ওঠে বিদায় জানায় ৷

---------------------------------


জলকেলি ৷
       নিখিল বিশ্বাস

সমুদ্রের বেলভূমি নিঃশব্দে মাড়িয়ে, লাল কাঁকড়াদের দেশ ছাড়িয়ে
সন্ধার অন্ধকারে সমুদ্রের লোণা জলে চলো পা ডোবাই ৷
অনন্ত যৌবনা কুমারী ঢেউ পদতলে আসে, সঙ্গোপনে প্রেম জানায়
কোথাও নিয়ে যেতে চায় ,কোন গোপন ঠিকানায় ৷

হোটেলের জানালায় হুহু করে ঢুকে পড়ে উদাসী বাতাস
আমাকে জাপটে ধরে প্রেয়সীর মতো দেয় উষ্ণ চুম্বন
ফিসফিস কত কথা অনন্ত রহস্যে ঢাকা ৷

ট্রেনে বাসে যেতে যেতে অপরিচিতর মৌন মিছিল ,
নিজেকে সম্বলহীন অজানা এক উদ্বাস্তু মনে হয়
কারো চোখে সম্ভাষণ নেই, বিরক্তির  হিমেল পরশ ৷

সমুদ্রের লোণা জলে পা ডুবিয়ে চলো বসি
সারা রাত মহাসমুদ্রের গান আর তুমি ঊর্বষী।




মহাসমুদ্রের গান p
- নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস ।

সমুদ্রের বেলভূমি নিঃশব্দে মাড়িয়ে, লাল কাঁকড়াদের দেশ ছাড়িয়ে
সন্ধার অন্ধকারে সমুদ্রের লোণা জলে চলো পা ডোবাই ৷
অনন্ত যৌবনা কুমারী ঢেউ পদতলে আসে, সঙ্গোপনে প্রেম জানায়
কোথাও নিয়ে যেতে চায় ,কোন গোপন ঠিকানায় ৷

হোটেলের জানালায় হুহু করে ঢুকে পড়ে উদাসী বাতাস
আমাকে জাপটে ধরে প্রেয়সীর মতো দেয় উষ্ণ চুম্বন
ফিসফিস কত কথা অনন্ত রহস্যে ঢাকা ,
আহ্বান করে যেতে দূর নীলাকাশ ৷

ট্রেনে বাসে যেতে যেতে একঘেয়ে মৌন মিছিল ,
কারো চোখে হাসি নেই, বিরক্তির  হিমেল পরশ ৷
অন্তহীন নীলাকাশে লক্ষ নক্ষত্র
জেগে আছে কালহীন অনন্ত সময় ৷

সমুদ্রের লোণা জলে পা ডুবিয়ে চলো বসি
সারা রাত মহাসমুদ্রের গান আর তুমি ঊর্বষী।


---------------------


অশ্লীল আড়ম্বর ৷ P
            নিখিল বিশ্বাস

ধর্ম শিক্ষার মন্দির নেই, নেই বিদ্যালয়
সারম্বরে কালীপূজো ,দূর্গা মহোৎসব
রক্তচক্ষুর শাষাণীতে লক্ষ টাকা চাঁদা
ফূর্ত্তি আর ধান্ধাবাজীর সেরা চড়ুইভাতী
লক্ষ টাকা বিসর্জণ গঙ্গা জলে যায় ৷

উদ্ধোধনে মন্ত্রীরা ভীষণ রকম ব্যস্ত
কার পূজোটা সেরা হবে সবাই সন্ত্রস্ত
কখনও শারুখ খান কখনও শ্রীদেবী
উড়ে এসে বম্বে থেকে পূজো করে খাঁটি ৷
আজ আর রামকৃষ্ণ নেই কিংবা নরেণ
পথভ্রষষ্ট্র মাতালদের কে সামলাবেন ৷

মহাজনদের সব শিক্ষা উপদেশ
বন্দী হয়ে আছে সব বইয়ের পাতায়
রামায়ন,শ্রীমৎগীতা ফুটপথে বিকোয়
কাম এবং ধর্ম শাস্ত্র একান্তে গড়ায়৷

মন্দিরে কি শেখায় ওরা পাইনি জবাব
মাদ্রাসার অন্ধকারে কোরাণ শরীফ
মানব সেবার থেকে ধর্ম বড় নয়
গুরদোওড়া হয়ে ওঠে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ ৷

ধান্ধাবাজীর চড়ুইভাতী বন্ধ হবে কী
কোরাণ বাইবেল পাঠে লক্ষ কোটি প্রাণ ৷
রাস্তায় প্যান্ডাল বেধেঁ বার্ষি্ক বারোয়ারী
অশ্লীল নষ্ট যজ্ঞে রয়েছে অম্লান ৷

----------------


উৎসবের কলকাতা p

      নিখিল বিশ্বাস

রাতের কোলকাতা শারদ উৎসবে মত্ত কোলকাতা
কর্কট রোগের কষ্ট ,এডসর কথা,
হাজার বাতীর রোদে ,হাজার গানের শব্দে
ভুলে গেছে ৷

প্যান্ডাল একদম কাশী বিশ্বনাথ
যুরী বিচারে এক নম্বর ৷
চারদিনের বঙ্গ বিলাস লক্ষ লক্ষ নয়ছয়
সারাবছরের শিল্প প্রতিভা ,আলোর কারসাজী
সব ভেঙ্গে নির্লজ্জ বিসর্জন বিজয়া দশমী ৷

কয়েকটা তাজমহল অনায়াসে করা যায় খরচ বাচাঁও
প্রতিভা ও অর্থের লজ্জাকর অপচয় ,দূষণ প্রচুর ৷

সুন্দরী শরৎকে দেখে ঈ্রর্শাকাতর কলকাতা
মৃত্যু পথযাত্রী কলকাতা ,মগ্ন হয়ে আছে
ব্যা্র্থ প্রচেষ্টায়
কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে একান্ত নিষ্ঠায় ৷

-------------------

 জীবনানন্দ দাশ ৷   P
     নিখিল বিশ্বাস

পঞ্চাশ বছর আগে হেমম্তের এক ম্লান বিকেলে
নাটোরের বিদগ্ধ কবি অকস্মৎ তারাদের ভীরে ৷
বৃদ্ধ পেচাঁ বসে ছিল হিজলের ডালে কিংবা ছাদের কার্নিশে
সোনালী ডানার চিল ক্লান্ত হয়ে অবশেষে কোথায় আকাশে ৷
পাখীর নীরের মতো চোখ তুলে চেয়ে ছিল বনলতা সেন
তবু তুমি চলে গেলে মিটিয়ে জীবনের সব লেন দেন ৷

কাঠাঁলী চাপার ফুলে চড়াই পাখীর ঠোট ছিল নাকি গোজাঁ
বাংলার ক্ষেতে ক্ষেতে ঝরছিল খই আর মৌরির ধান
হেমন্তের মরা রৌদ্রে শালিখেরা ভীড় করে এসেছিল বুঝি
বাসমতী চালে ধোয়া সাদা হাত কিশোরীর রেখেছিল বুকে ৷

মৃত নক্ষত্রের বুকে কুয়াসায় ভেসে ভেসে অবশেষে
এসেছিলে এই খানে কার্তিকের নবান্নের দেশে
শংখচিল শালিক কিংবা ভোরে ডাকা কাক
লক্ষ্মীপেচাঁ ডেকে যায় কদমের ডালে বসে রাত্রী গভীরে
বাংলার নদী ,মাঠ ঘাট সর্বত্র তুমি আছো ৷
তুমি আছো ধানসিড়ি নদীটীর তীরে ৷


বি.দ্র :গঙ্গাজলে গঙ্গা পূজা , ২০০২ সালে রচিত ৷



তবেই হবে সার্থক  P
    নিখিল বিশ্বাস

তুমি যখন কথা বলবে অবশ্যই হাত নাড়বে
বিভিন্ মুদ্রায় ৷
শব্দের সঙ্গে সঙ্গে হাতের আঙ্গুল নেচে যাবে
সমুজ্জল হবে তুমি পান্ডিত্যে ও প্রজ্ঞায় ৷
যখন কথা বলবে  হবে না শঙ্কিত ৷
সতমিথ্যা যা ই হোক জানা বা অজানা
প্র্রতি শব্দ স্পষ্ট হবে মন্ত্র উচ্চারণে
যেন গীতা বা কোরাণ থেকে হয়েছে উদ্ধৃত ৷

যখন কথা বলবে জানবে তুমি ই ঈশ্বর
অথবা ঈশ্বরের প্রিয় শিষ্য তার বানী নিয়ে
জগতে এসেছো করতে ধর্ম প্রচার
তোমার অমূল্য বানী খ্র্রীস্ট সমাচার ৷

তুমি ছাড়া সব বৃথা ,তোমার জন্য সব কিছু ৷
সবই তোমার মায়া এবং লীলা ৷
অন্যসব পারিষদ এবং উপসর্গ মাত্র ৷
তবেই সার্থক তুমি, মানবে সবাই তোমায় ৷

ধর্ম ,ব্যাবসা,সাহিত্য বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠার সব্বোচ্চ চূড়ায়
অবশ্যই পৌছে যাবে সবাইকে নীচে ফেলে পায়ের তলায় ৷



যু্দ্ধক্ষেত্র   P
      নিখিল বিশ্বাস

রণক্ষেত্রে কৃপা নয় অব্যর্থ লক্ষ্য চাই, হিংসার আগুন
অধর্ম তা যুদ্ধে নেই শাস্ত্র্রের ব্যখ্যা তুমি যতই শানাও ৷
যুদ্ধে রথের চাকা বসে গেলে
অসহায় কর্ণ কৃপা ভিক্ষ চায় ,
শাস্ত্রের অব্যয় বাক্য ,
বিপন্নকে শত্র হোক .মারা অনুচিত ৷

কর্ণের চক্রব্যূহে ,সপ্তরথী ,সবে মিলে অভিমন্যু মারে ৷
বালক যোদ্ধাকে ওরা অসহায় একা পেয়ে মেরেছে নির্মম
'তখন কর্ণের এই ধর্ম বোধ কোথা ছিল ' কৃষ্ণের উক্তিতে
অর্জুণের আঞ্চলিক অব্যর্থ্য লক্ষে গিয়ে কর্ণ মাথা কাটে ৷

কৃষ্ণ জানে যুদ্ধ এটা ,শত্রদের মারা চাই যে ভাবেই হোক
যুক্তি সেটা হোক নির্দয় সম্পূর্ণ বা হোক ভুল তবুও সঠিক ৷
অধর্মের প্রতিশোধ অধর্মেই হবে যুক্তি এটা নয়
তবুও সার্থক কৃষ্ণ ,অর্জুনের,বাণ ছোটে ত্বরিত গতিতে ৷


যদি  p

    নিখিল বিশ্বাস


আকাশ যদি ছন্দ হয়ে ভর করত আমার হাতে
বৃষ্টি যদি নাচত ভুলে টিনের চালে এই প্রভাতে

আমার তবে স্ফূ্তি হোত
ভর্তি হোত খাতা যতো

বই র পরে বই বেরতো নাম কিনতাম কয়টি রাতে ৷

পাখীর গানে আমার হৃদয় ভরতো যদি দুটো বেলাই
কুলু কুলু শব্দে নদী নিত্য যদি করতো খেলাই

কাব্য তখন আমার হতো
বিদ্ব জনের মনের মতো

নুতন নুতন তত্ত্ব কত ভিরতো এসে কাব্যে মেলাই ৷

আমার যদি চাকরি হতো হাজার টাকা মাইনে কোথাও
কিলবিলিয়ে জুটতো লেখা লিখতে হতো আঙুল ব্যথাও

আমার যদি থাকত বাড়ী
ঠান্ডা করা মস্ত গাড়ী

তবে আমার ছুটত লেখা পাল্টে দিত সমাজ প্রথাও ৷
    ---------

 বি.দ্র:  ১৯৭১ সালে লেখা কলেজ ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল
 ------------------------------


সবাই এগিয়ে যায়

নিখিল বিশ্বাস

এক সঙ্গে রাস্তায় নেমেছিলাম হাটতেঁ
সকলেই এগিয়ে গেছে
আমি পিছনে পড়ে আছি একা
অনেক পিছনে বিপন্ন বিস্ময়ে ৷

একদিন কোন সমস্যাই কঠিন ছিলনা
একদিন কোন অঙ্ক ই শক্ত লাগত না
আজকাল হিসাবের খুব গোলমাল হয় ৷

এক দিন দারা ,পুত্র .কন্যা সবাই বাধ্য ছিল
আজ সবাই কেমন অচেনা মনে হয় ৷

একদিন দূর্গম পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছি একা
আজ সবাই এগিয়ে যায়
মুখ থুবরে পড়ে যাই
পড়ে থাকি পিছে ৷

বিপন্ন হতাশ আজ
ঘরের কোনায় থাকি
ভীষণ একাকী ৷
----------------

ঈশ্বরের কবর p
    নিখিল বিশ্বাস

ঈশ্বরের অস্তিত্বকে নিষাদের তীর ছুড়ে
মনের জঙ্গঙ্লে আমি শেষ করে দেব ৷
আর যেন বারবার ব্যর্থতার ফাদে পড়ে
পরম সত্যর মতো কিছুতে না মানি ৷

আমার হাতেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানের জামদাগ্নি বাণ
তবে কেন অহরহ মিথ্যে সংশয় ?
সমস্ত ক্ষমতা আজ আমাদের হাতে
কল্পনা ও হার মানে প্র্র্রযুক্ত্যির কাছে ৷

ঈশ্বরের অস্তিত্বকে মনের জানালা দিয়ে
ঠিক আমি ঠেলে ফেলে দেব ৷

প্রতিটি মুহূ্র্ত্তে নত আমার ব্যক্তিত্ব
কাল্পনিক পায়ে কেন মিছে মারা যাবে ?

মিশরের পিরামিডে ঈশ্বরের কবরের করেছি বিধান ৷

------------------------

কর্মযজ্ঞ ৷p
    নিখিল বিশ্বাস

সকালে বাতাস মন্দ মধুর অপরূপ মোহময়
বর্ণ গন্ধ লাবন্য মেখে ফুল কত ফুটে রয় ৷

পাখীর কূজন ফুলের সুরভী স্নিগ্ধ মমতামাখা
ভেবেছ কখনও কিসের জন্য
এত আয়োজন রাখা ?
ভেবেছ কখনো অপ্সরা ওই ফুলের জন্ম কথা ?
ছোট্ট কুড়িটী গোপনে কেদেঁছে ,অস্হির নীরবতা ৷

কত সাধনার অমৃত ফল তিলেতিলে সঞ্চয়
কি ছিল পিছনে ভেবেছ  কখনও
কেন হল তার জয় ?

ঘুমিয়ে কখনও ফোটান যেতনা সুরভিত ঔ প্রাণ
অবিরাম তাকে জপিতে হয়েছে জাগিবার মহা গান ৷
নদী উদ্দাম কলকল ছোটে বন্ধন হীন ধারা
গতি যদি হয় দিশাহীন তবে
বালুকাতে হবে হারা ৷

জীবনের এই কর্মযজ্ঞে নিজেকে ব্যাপ্ত কর 
ফুলের মতন ফুটিয়া উঠিয়া জগৎকে লও কাছে৷
তটিনীর মতো হও দু্র্বার সূর্য্য জ্যোতির্ময়
নিজেকে মিলাও সকলের মাঝে আনন্দে নির্ভর ৷

------------------------

Comments

Popular posts from this blog

আসুরিক উৎসব

দশটি কবিতা